কাজী নজরুল ইসলাম (২৪ মে[ক] ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ – ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার ও সঙ্গীতজ্ঞ। তার মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় তিনি কবি। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
জন্ম
১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ২৪ মে ১৮৯৯[১][২]
চুরুলিয়া, বর্ধমান, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)[২]
মৃত্যু
২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (বয়স ৭৭)
ঢাকা, বাংলাদেশ
মৃত্যুর কারণ
পিক্স ডিজিজ
সমাধি
কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ, ঢাকা
২৩.৭৩৫০৬৩৮° উত্তর ৯০.৩৯৪৯৮১৪° পূর্ব
জাতীয়তা
ব্রিটিশ ভারতীয় (১৮৯৯–১৯৪৭)
ভারতীয় (১৯৪৭–১৯৭২)
বাংলাদেশি (১৯৭২–১৯৭৬)[৩]
পেশা
কবিছোটগল্পকারঔপন্যাসিকপ্রাবন্ধিকনাট্যকারসম্পাদকগীতিকারসুরকারগায়কঅভিনেতাঅনুবাদকফৌজিরাজনৈতিক কর্মী
কর্মজীবন
১৯২০–১৯৪২
কর্ম
রচনাবলিনজরুলগীতি
রাজনৈতিক দল
কিরতী কিষাণ পার্টি[৪][৫][৬]
আন্দোলন
বাংলার নবজাগরণ
অপরাধের অভিযোগ
রাষ্ট্রদ্রোহিতায় প্ররোচণা
অপরাধের শাস্তি
৩ মাস কারাদণ্ড
দাম্পত্য সঙ্গী
নার্গিস আসার খানম (বি. ১৯২১; বিচ্ছেদ. ১৯৩৭)
আশালতা সেনগুপ্ত (প্রমীলা দেবী) (বি. ১৯২৪; মৃ. ১৯৬২)
সন্তান
কৃষ্ণ মুহম্মদঅরিন্দম খালেদ (বুলবুল)কাজী সব্যসাচীকাজী অনিরুদ্ধ
পিতা-মাতা
কাজী ফকির আহমদ (পিতা)
জাহেদা খাতুন (মাতা)
পুরস্কার
জগত্তারিণী পদক (১৯৪৫)
পদ্মভূষণ (১৯৬০)
ডি.লিট ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
একুশে পদক (১৯৭৬)
স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৭৭)
লেখক হিসেবে কর্মজীবন
ছদ্মনাম
ধূমকেতু
ডাকনাম
দুখু মিয়া, তারাক্ষ্যাপা[১]
ভাষা
বাংলাহিন্দুস্তানি (হিন্দি-উর্দু)ফার্সিআরবি
সময়কাল
আধুনিক
ধরন
ছোটগল্পউপন্যাসপ্রবন্ধকবিতানাটকগজলগান
বিষয়
বিপ্লব
মুক্তিমানবতাবাদসাম্যবাদ,
ধর্মনিরপেক্ষতা
ন্যায়বিচার,
নারী অধিকারপ্রেম
ধরন
ছোটগল্পউপন্যাসপ্রবন্ধকবিতানাটকগজলগান
বিষয়
বিপ্লবমুক্তিমানবতাবাদসাম্যবাদধর্মনিরপেক্ষতান্যায়বিচারনারী অধিকারপ্রেম
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরন
নজরুলগীতিহিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতলোকসঙ্গীতরণসংগীতআরবি সংগীতপারসিক সংগীতগজলহাম্দনাতশ্যামাসংগীত
বাদ্যযন্ত্র
গলাহারমোনিয়ামতবলাবাঁশি
লেবেল
হিজ মাস্টার্স ভয়েসআকাশবাণী
এর পূর্বে
লেটোগানের দল
সামরিক কর্মজীবন
আনুগত্য
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
সেবা/শাখা
ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী
কার্যকাল
১৯১৭–১৯২০
পদমর্যাদা
হাবিলদার (সার্জেন্ট)
ইউনিট
৪৯তম বেঙ্গলি রেজিমেন্ট
যুদ্ধ/সংগ্রাম
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সময়কাল
আধুনিক
ধরন
ছোটগল্পউপন্যাসপ্রবন্ধকবিতানাটকগজলগান
বিষয়
বিপ্লবমুক্তিমানবতাবাদসাম্যবাদধর্মনিরপেক্ষতান্যায়বিচারনারী অধিকারপ্রেম
সঙ্গীত কর্মজীবন
ধরন
নজরুলগীতিহিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতলোকসঙ্গীতরণসংগীতআরবি সংগীতপারসিক সংগীতগজলহাম্দনাতশ্যামাসংগীত
বাদ্যযন্ত্র
গলাহারমোনিয়ামতবলাবাঁশি
লেবেল
হিজ মাস্টার্স ভয়েসআকাশবাণী
এর পূর্বে
লেটোগানের দল
সামরিক কর্মজীবন
আনুগত্য
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
সেবা/শাখা
ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী
কার্যকাল
১৯১৭–১৯২০
পদমর্যাদা
হাবিলদার (সার্জেন্ট)
ইউনিট
৪৯তম বেঙ্গলি রেজিমেন্ট
যুদ্ধ/সংগ্রাম
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
স্বাক্ষর
তাঁর জীবন শুরু হয়েছিল সাধারণ পরিবেশে। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি বড় হয়েছিলেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ সত্তা নিয়ে। একই সঙ্গে তার মধ্যে বিকশিত হয়েছিল একটি বিদ্রোহী সত্তা। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজদ্রোহিতার অপরাধে কারাবন্দী করেছিল। তিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীন অবিভক্ত ভারতের বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন।
যে নজরুল সুগঠিত দেহ, অপরিমেয় স্বাস্থ্য ও প্রাণখোলা হাসির জন্য বিখ্যাত ছিলেন, ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মারাত্মকভাবে স্নায়বিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে আকস্মিকভাবে তার সকল সক্রিয়তার অবসান হয়। ফলে ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু অবধি সুদীর্ঘ ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রযোজনায় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সপরিবারে কলকাতা থেকে ঢাকা স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[৮]
বিংশ শতাব্দীর বাঙালির মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তার মানবিকতা, ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা গত প্রায় একশত বছর যাবৎ বাঙালির মানস পীঠ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে।[৯]